এই গরমে নিয়মিত মধু এবং দারচিনি কেন খাবেন ? না জানলে জেনে নিন!

এই গরমে নিয়মিত মধু এবং দারচিনি কেন খাবেন ? না জানলে জেনে নিন!

যত বছরই বাঁচুন না কেন, সুস্থভাবে বাঁচতে চান নাকি ডাক্তারের দাস হয়ে শ্বাস নিতে চান? এ কেমন প্রশ্ন মশাই! সবাই তো সুস্থভাবেই বাঁচতে চায়, তাই না! এমন কাউকে কি খুঁজে পাবেন যে বলবে যে আমি অসুস্থ হতে চাই। তাই যদি হয় তাহলে মধু এবং দরচিনি খাওয়ার অভ্যাস করেননি কেন বলুন তো? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এই দুই প্রকৃতিক উপাদান একসঙ্গে খেলে শরীরে ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা এমন মাত্রায় বেড়ে যায় যে মেলে আরও অনেক শারীরিক উপকার। যেমন ধরুন…

১. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

দারচিনি এবং মধুতে এমন কিছু পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন দাঁতকে শক্তপোক্ত করে, তেমনি মুখগহ্বরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ যেমন দূর হয়, তেমনি কোনও ধরনের ডেন্টাস প্রবলেম মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য় করে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত সকালে উঠে গরম জলে মধু এবং দারচিনি মিশিয়ে খেলে শরীরে অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে মেদ ঝরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ফলে ওজন হ্রাস পেতে সময় লাগে না। তাই তো বন্ধু অতিরিক্তি ওজনের কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে এই ঘরোয়া ঠোটকাটিকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন!

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়:

নিয়মিত যদি পরিমাণ মতো দারচিনির পেস্টের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের পরিমাণ বাড়তে থাকে যে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে ক্লান্তিও দূর হয়।

৪. আর্থ্রারাইটিসের প্রকোপ কমায়:

নিয়মিত গরম জলে পরিমাণ মতো মধু এবং দারচিনি পেস্ট মিশিয়ে খেলে জয়েন্টে প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হাড়ও শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর্থ্রারাইটিসের মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে:

পরিবারে কি এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে? তাহলে তো বন্ধু আজ থেকেই দরচিনি এবং মধু খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই দুই প্রকৃতিক উপাদান ইনসুলের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৬. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মধু এবং দারচিনি খেলে চুলের গোড়ায় পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে হেয়ার ফলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

৭. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমায়। অন্যদিকে দারচিনিতে উপস্থিত অ্যান্টি-টিউমার প্রপাটিজ শরীরে কোথাও টিউমার হতে দেয় না। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত দারচিনি এবং মধু খেলে স্টমাকে উপস্থিত গ্যাস বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদহজম এবং বুক জ্বালার মতো সমস্যা কমে যায়। প্রসঙ্গত, ব্লাডার ইনফেকশনের মতো রোগের চিকিৎসাতেও এই দুটি প্রকৃতিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১০. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

সপ্তাহে ২-৩ দিন পরিমাণ মতো দারচিনি পেস্ট নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে যদি মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে স্কিনের যে কোনও সমস্যা কমে যায়। সেই সঙ্গে কোষের উপরের স্থরে জমতে থাকা মৃত কোষের স্থর সরে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণচ্ছল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বলিরেখা এবং বয়সের ছাপও কমতে থাকে।

GSM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *